কুমিল্লা-৩ আসনে নৌকা চান ১৪ জন, তৃণমূলে কোন্দল

Posted on by

কুমিল্লা টিভি নিউজঃ কুমিল্লা-৩ আসনে (মুরাদনগর) নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোন্দল ও বিভক্তির কারণে এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

নেতারা জানান,দলের কমিটি দেওয়া নিয়ে নেতাদের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বেড়েছে।এতে বিগত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল ও জোটের মনোনীত ও সমর্থিত অনেক প্রার্থীকে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে লড়তে হয়েছে।কোন্দলের কারণে হতাশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ নিয়ে সেই বিভক্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখনই নেতাদের মধ্যকার কোন্দল নিরসন করা না গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন আসনটির সিনিয়র রাজনীবিদরা।

দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহকারী নেতারা হলেন— বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হানিফ সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুহল আমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপসম্পাদক আ.খ.ম গিয়াস উদ্দিন, মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য সচিব ড. এহসানুল আলম সরকার কিশোর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অলিউল্লাহ পলাশ, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম।

জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন, মুরাদনগর থানা ও বাঙ্গরা বাজার থানা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ আসন। এ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মাঠ। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে দেখা দিয়েছে কোন্দল ও বিভক্তি। দলীয় কোন্দল ও বিভক্তির কারণে ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. ওয়ালী আহাম্মদের পর এই আসনে আর জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। ১৯৭৯ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বারবার প্রার্থী বদল করেও আসনটিতে আওয়ামী লীগের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি দলীয় কোন্দলের কারণে। একই কারণে এবারের সংসদ নির্বাচনেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দলটির।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-৩ আসনে নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কুমিলা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের মধ্যে চলছে বিরোধ। এ বিভাজন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর মধ্যে ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন রয়েছেন। অপরদিকে, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের মূল ধারার নেতাকর্মীদের নিয়ে। এই দুই গ্রুপের মধ্যে দলকে নিজেদের আয়ত্বে রাখতে ও নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক নেতাকর্মীর প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটেছে। মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ ও শ্রমিক লীগসহ প্রায় সব অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক কমিটি নিয়েও দলের নেতাকর্মীরা পরস্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। এ দ্বন্দ্ব নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধাণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার। পরবর্তীতে তা পরির্বতন করে ১৪ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীকে। বিদ্রোহী হিসেবে মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন মুরাদনগর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ছেলে ড. এহসানুল আলম সরকার কিশোর। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের সঙ্গে। ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয় পান। ফলে মুরাদনগর আওয়ামী লীগে জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের মধ্যে নেতৃত্বের আধিপত্য ও দ্বন্দ্ব আরও একধাপ বেড়ে যায়।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যারা করে তাদের দলের জন্য সকলের ত্যাগ আছে। সবাইকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে রাজনীতি করি।’ তিনি বলেন, ‘আমি নৌকা প্রতীকের পক্ষে, তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ আমাকে নিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছে। গত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে পরে দলের স্বার্থে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে মহাজোটকে (লাঙ্গল) এই আসনটি ছেড়ে দেই।’

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপি বলেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, এখানে নেতাও অনেক বেশি। তাই নেতাদের মতবিরোধ কিংবা মান-অভিমান থাকতেই পারে। সময় মতো সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x