বরুড়া থেকে নৌকার টিকেট পেতে যাচ্ছে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া !

Posted on by

অাব্দুস সাত্তার :: কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে এবার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
কৃষি ও শিক্ষায় অগ্রসর জনপদ কুমিল্লার বরুড়ায় মরহুম রাজনীতিক সাবেক এমপি আবদুল হাকিমের নেতৃত্বাধীন সেই আওয়ামীলীগ এখন চতুর্থ ধারায় বিভক্ত। দলের নেতা-কর্মীরা সাবেক এমপি নাছিমুল আলম নজরুল, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক মিয়াজির গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্বে আবারও মহাজোটের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে চায় জাতীয় পার্টির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সভাপতি বর্তমান এমপি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন। অন্যদিকে বরুড়ার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা কোন্দলমুক্ত বিএনপির নিশ্চিত একক প্রার্থী সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমনের বিপক্ষে দ্বন্দ্বে আক্রান্ত আওয়ামীলীগ একাট্টা হলেও জয়ের ব্যাপারে শঙ্কা থেকে যাবে।
এদিকে বরুড়াতে খালেদ ভূঁইয়া পক্ষের শক্তিকে আরো জোড়ালো করার লক্ষ্যে যুবলীগের নতুন কমিটি ঘোষনা করেন । খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এর হস্তক্ষেপে অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস সুমনকে আহ্বায়ক করে আওয়ামী যুবলীগের বরুড়া উপজেলার ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন জিয়াউল কাউসার ও বকতার হোসেন। সম্প্রতি যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও মো. হারুনুর রশীদ কমিটি অনুমোদন দেন। কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে সকল ইউনিয়ন শাখার সম্মেলন শেষ করে উপজেলা শাখার সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ হয়েছে।

কিন্তু কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন জিয়াউল কাউসার ও বকতার হোসেন সম্পর্কে বেয়াই । তারা কোন ভাবেই খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া কমিটিকে মেনে নিতে পারছেনা । অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস সুমন এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া বাল্য কালের বন্ধু । সেই সুবাদে বরুড়াতে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া নিজের অবস্থান তৈরি করতে রুহুল কুদ্দুস সুমনের সাহায্য নিচ্ছেন বলে যানা যায় । তবে যুবলীগের নতুন কমিটি ঘোষনার পর থেকেই নিজেদের ভিতর দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে গেছে । তবে অনেকের ধারনা কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাথে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া সুসম্পর্ক থাকার ফলে বরুড়া থেকে আসন্ন নির্বাচনে তিনি নৌকা থেকে টিকেট পাবেন । এবং বরুড়ার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন ।


আওয়ামলীগের রাজনীতিতে কোনদিন সক্রিয় না থেকেও দলের টিকেটে নৌকা নিয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বরুড়া আওয়ামীলীগে দ্বন্দ্ব কোন্দলেন অশনি সংকেত বেঁজে ওঠে। ওই সময়কার বরুড়া আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাকিমকে কোনঠাসা করতে হাইব্রিডদের সংগঠিত করতে থাকেন নজরুল। বরুড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকা সত্ত্বেও ২০১০ সালে ওই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আর এমপি নজরুল নিজেই আহবায়ক বনে যান। বরুড়া আওয়ামীলীগে শুরু হয় হাকিম-নজরুল দ্বন্দ্ব। বরুড়া আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথেও নজরুলের সৃষ্টি হয় দুরত্ব। ওই সময়ে গণভবনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময় সভাতেও নজরুলকে স্বাধীনতা পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। দ্বন্দ্ব বিরোধের পথেই চলতে থাকে বরুড়া আওয়ামীলীগ। এরিমধ্যে শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন আবদুল হাকিম। বরুড়া আওয়ামীলীগে সক্রিয় হয়ে উঠেন একসময়কার ছাত্রলীগ নেতা আবদুল হাকিমের ছেলে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। শুরু হয় নজরুল-কামরুল দ্বন্দ্ব। আর এ দ্বন্দ্বের ডাল-পালা মেলে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে কামরুল মনোনয়ন চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ান নজরুল। শেষ পর্যন্ত দ্বন্দ্ব না মেটায় মহাজোট থেকে প্রার্থী দেয়া হয় জাতীয় পার্টির নেতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলনকে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন কামরুল ইসলাম। আর এনির্বাচনেও নজরুল মহাজোট প্রার্থী মিলনের পক্ষে অবস্থান নেন। মিলনের কাছে হেরে যান কামরুল। ২০১৫ সালে আবদুল হাকিমের মৃত্যুর পর বরুড়া আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ গোছাতে শুরু করেন কামরুল ইসলাম। এরিমধ্যে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পান। অন্যদিকে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট বরুড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আবহ্বায়ক হোন সাবেক এমপি নজরুল।

এদিকে বরুড়া আওয়ামীলীগে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মিয়াজি। কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও ভিপি এনামুল হক মিয়াজী বরুড়ায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ইতিমধ্যে ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নের আশায় তিনিও মাঠ গোছাচ্ছেন। নিজের গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিয়ে এনামুল হক মিয়াজির সাংগঠনিক তৎপরতা জোরেশোরেই ছলছে। জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন চতুর্থ ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়া বরুড়া আওয়ামীলীগ আগামী নির্বাচনে ঐক্য করলেও বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানের জন্য জয়ের জায়গাটিতে শঙ্কা থেকে যাবে।

বর্তমানে বরুড়া বিএনপির মাঠ পর্যায়ের যে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে তার বিপক্ষে আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ হলেও নৌকার জয়ের বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা থেকে যাবে। দলের নেতা, কর্মী, সমর্থকরা জানান, বরুড়া আওয়ামীলীগে দ্বন্দ্ব আছে কী নেই তা নিয়ে বিএনপি চিন্তিত নয়। চ্যালেঞ্জ, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সক্ষমতা রয়েছে বরুড়া বিএনপির। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ থাকলে বরুড়ায় বিএনপির জয় ঠেকানো যাবেনা।
তবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন বিগত বছর গুলোতে বরুড়ার উন্নয়নে কোন ধরেন ভূমিকা রাখেনি । আওয়ামীলীগ থেকে কোন ধরনের চাপ না থাকায় বরুড়া সদর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে উন্নয়নে ছোয়া লাগে নাই । বরং বরুড়ার মানুষের জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ লুটে অভিযোগ উঠেছে । সেই সাথে বিগত ৫ বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকার মালিক হয়েছে বলে জানা যায় ।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x