কুমিল্লায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

Posted on by

কুমিল্লা টিভি নিউজঃ ‘আম্মু ওরা আবার আইছে তুমি ঘরে ঢুকো’- কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার পর সাংবাদিকদের দেখে ১০ বছরের এক শিশু ভয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মাকে এসব কথা বলতে থাকে।কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সোমবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের সরসপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে ওই গ্রামের সেলিনা বেগমের ১০ বছরের শিশুকন্যা সাংবাদিকদের দেখে ওই শিশুটি ভয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে- ‘আম্মু ওরা আবার আইছে, আমাদের মারবে তুমি ঘরে ঢুকো।’ ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সরসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন,ইউপি যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মানিক, যুবদল কর্মী জয়নাল আবেদীন,ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্বপনসহ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।তাদের দাবি, পুলিশ এই হামলায় সহযোগিতা করেছে মান্নানকে। তবে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান দুজনই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় ও বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ,রোববার রাতে সরসপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার জের ধরে সোমবার বিকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা সরসপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.ইয়াসিন, যুবদল নেতা সাদ্দাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্বপন, যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম তুফান, এছাড়াও সরসপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বসবাসকারী শাহ আলমের স্ত্রী সেলিনা বেগম, প্রবাসী স্ত্রী কাজল রেখা, নূর আলমের স্ত্রী হারেছা বেগম, আবদুল মালেকের স্ত্রী মুন্নি বেগমসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৫টি ঘর ভাঙচুর করেছে তারা।

ওই সময় নারীদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ওই গ্রামে পুরুষশূন্য রয়েছে। শিশু ও নারীরা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, এ সময় পুলিশও ছিল ঘটনাস্থলে। পুলিশের সদস্যরাও তাদের সহযোগিতা করেছে। ওই সন্ত্রাসীরা ঘরের টয়লেট পর্যন্ত ভাঙচুর করেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এ দিকে ঘটনার সূত্র ধরে মঙ্গলবার আবারও দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, পুলিশের সদস্যরা ওইদিন বিকালে সরসপুর গিয়েছিল। আমাকে সঙ্গে যেতে বললে চেয়ারম্যান হিসেবে আমিও গিয়েছি। আবার আমরা সেখান থেকে চলেও এসেছি। কিন্তু আমরা কারো বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছি বা লুটপাট করেছি এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো ঘটনায় ছাত্রলীগ বা যুবলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই ঘটনাটি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। আর ওইদিন পুলিশ সেখানে যায়নি, আমিসহ পুলিশের সদস্যরা লক্ষণপুর (সরসপুরের পাশের এলাকা) বাজারে ছিলাম। এছাড়া এ ঘটনায় আমাদের কাছে স্থানীয় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

More News from কুমিল্লা

Developed by: TechLoge

x