১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে দেবিদ্বার পৌরসভার নির্বাচন

Posted on by

কুমিল্লা নিউজঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার ১৫ বছর পরেও নির্বাচন হচ্ছে না। এ জন্য সকল সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌর নগর বাসী। সীমানা জটিলতার মামলায় বারবার আটকে যাচ্ছে এ নির্বাচন। দেবিদ্বার পৌরবাসী অবিলম্বে তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অচিরেই দেখতে চান। আর কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে প্রশ্ন এখন পৌরবাসীর মুখে মুখে।

জানা যায়, দেবিদ্বারের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর উদ্যোগে তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে ২০০২সালে ১কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গুনাইঘর এলাকায় দেবিদ্বার পৌর ভবন নির্মাণ কর হয়। ২০০২সালের ৪ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বার পৌরসভার গ্যাজেটে বিগুপ্তি প্রকাশের পর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে একই বছরের ১৩ই সেপ্টম্বর পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়।

কিন্তু শুরুতে পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহিত পৌরসভার প্রাথমিক নকশায় পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি করতে গিয়ে গোমতী নদী অতিক্রম সহ কৃষিনির্ভর ও অনুন্নত অনেক এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ওই নকশার আংশিক পরিবর্তন করে ২০০৫ সালের ১৮ জানুয়ারী ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ চুড়ান্ত করে মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়। কিন্তু আপত্তি থেকেই যায়। ২০০৭সালে স্থানীয় আবদুল মতিন গং বড়আলম পুর, ভিংলাবাড়ি, ফতেহাবাদ ও মরিচা কান্দা এ চার গ্রাম যাতে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা না হয়ঃ

সে জন্য মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন এবং ২০০৯ সালের ১৭ই মে স্থানীয় আছাদুজ্জামান পাঠান পৌরসভা বাতিলের দাবীতে হাইকের্টে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলাগুলো বিচারধীন রয়েছে। আজ এই পর্যন্ত মামলা দুটি নিস্পত্তির জন্য কেউ উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ১৫ বছরেও সে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে আছে দেবিদ্বার পৌর নির্বাচন।
তবে দেবিদ্বার পৌরসভার কার্যক্রম শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে এ পৌরসভার দায়িত্ব পালন করছেন। একই ব্যক্তি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যাতায়াত সমস্যা ও নাগরিক সেবার সুবিধার অজুহাতে ওই পৌর ভবন তালাবদ্ধ রেখে পৌরসভার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দেবিদ্বার মাজেদা আহসান মুন্সী পৌর গণপাঠাগারে।

উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় দীর্ঘ বছর ধরে ঝুলে আছে এ পৌরসভার নির্বাচন। ফলে জন প্রতিনিধির বদলে উপজেলা নির্বাহীকর্মকতা ও পৌর প্রশাসকই হচ্ছেন এই সেবাবঞ্চিত পৌরনগর বাসীর সেবা লাভের একমাত্র ভরসা।
কুমিল্লা-৪(দেবিদ্বার)এর বর্তমান সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল মুন্সী বলেন, দেবিদ্বার পৌর সভার উন্নয়নের জন্য নির্বাচন অতি জরুরী। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া পুর্নাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব না। নির্বাচনের লক্ষে ও পৌর বাসীর পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সুবিধার ভোগ করার স্বার্থে মামলাগুলো প্রত্যাহার করার জন্য বাদিদের প্রতি আমি অনুরোধ করছি।
একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলে ত্রিমুখী গ্রুপিং ছাড়াও কমপক্ষে ৫/৬ জন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আছেন। এতে এ পৌরসভার প্রথম মেয়র কে হবেন এ নিয়ে দলে চলছে টানাপোড়েন। তাই দলীয় কোন্দল নিরসন না করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মতো বিএনপি দলীয় প্রার্থীর কাছে দলের প্রার্থীর চরম ভরাডুবির আশঙ্কায় কৌশলে নির্বাচনে আগ্রহী হচ্ছে না ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এ পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না।
দেবিদ্বার উপজেলার পৌর আ’লীগের সভাপতি ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল কাশেম চেয়াম্যান বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া উন্নয়ন হয় না, তাই দেবিদ্বার পৌরসভার রাস্তাঘাট, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির সহ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্বাচন অতি জরুরী। পৌর বাসীর নাগরিক সুবিধার স্বার্থে মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নাগরীক সেবার লক্ষে পৌরসভার নির্বাচন হওয়া জরুরি। তাই স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে পৌরবাসীরা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে আদৌ নির্বাচন হবে কিনা সংশয় প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট পৌর কতৃপক্ষ কিংবা উপজেলা নির্বাচন অফিসও এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেনা। তবে যথা সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় প্রায় ৩৭ হাজার নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।
দেবিদ্বার আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী সমাজ সেবক হাজী আবুল কাশেম ওমানী বলেন, নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছেনা। পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও আজপর্যন্ত নির্বাচন না হওয়ায় দেবিদ্বার পৌরবাসী বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত। যারা পৌরসভা দেখতে চায়না এবং উন্নয়ন চায়না তাদের মামলার কারনে নির্বাচন হচ্ছেনা, আমি পৌরসভার উন্নয়নের সার্থে তাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
পৌর প্রশাসক ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম বলেন ,আমি যোগদানের পর খোঁজ খবর নিয়ে শুনেছি পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই চলমান মামলা দুটি নিষ্পত্তি করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে ওই মামলা পরিচালনা করার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মামলা নিস্পত্তি হলেই পৌরসভার নির্বাচন হবে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x